আজ জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রিন্স আলি বিন আল-হুসেইন সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করে ফিফার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

দীর্ঘ লেখাটির পূর্ণ পাঠ নিচে দেওয়া হলো।
ফিফার নিজের নানা সমস্যার শেষ নেই। প্রথমে জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরব, বিশেষ করে জর্ডানের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে ওঠার অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে। আমাদের দেশ ছোট, ফেডারেশনের ব্যবহারযোগ্য বাজেটও সীমিত; এত দূর আসতে অকল্পনীয় সব বাধা পেরোতে হয়েছে।
প্রথমত, আমাদের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে খেলা দেখতে যেতে নানা বাধা পোহাতে হয়েছে: বিশ্বকাপের টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ভিসা পাননি; আর আমরা জানি, বহু টিকিট দালালদের হাতে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এবারের আসর যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় মার্কিন সরকার ফিফার মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত কর নিয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মীদের দেওয়ার কথা ছিল এমন অর্থ অযথা কেটে নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে কানাডা বা মেক্সিকোয় খেলা কিংবা ক্যাম্প করা দলগুলোকে এমন খরচ বহন করতে হয়নি। শুধু আমাদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় দলকে বড় অঙ্কের কর ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
তৃতীয়ত, গত ডিসেম্বর কাতার আরব কাপ—ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতা—শেষ হওয়ার পর থেকে আমরা খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্ট বোনাসের অপেক্ষায় আছি। আমাদের দল ফাইনালে উঠেছিল, তবু প্রাপ্য অর্থ আজও দেওয়া হয়নি; অথচ ফিফা সর্বত্র শত শত বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থাকার গর্ব করে।
স্পষ্টতই সমস্যার মূল ব্যবস্থাপনায়। কয়েক মাস ধরে এসব সংকট ও অন্যান্য অনুরোধের মুখে ফিফা সাহায্য দিতে অস্বীকার করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে এক ব্যক্তি আমাকে সরাসরি মৌখিকভাবে ইঙ্গিত দেন: আমি যদি প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোকে সমর্থন করি, তবে জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
জর্ডান সব সময় নৈতিক মূল্যবোধ মেনে চলার জন্য গর্ব করে। অতীতে আমরা তাঁর পক্ষে দাঁড়াইনি, এখন তো আরও দাঁড়াব না। এমন আচরণ আসলে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল, এবং আমরা এর কাছে মাথা নত করব না।